ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ , ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গরীবের হক,ধনীর পকেটে, বানিয়াচংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, টাকা পাচ্ছে ধনাঢ্য, তদন্তের দাবী।।

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৮-০৬-২০২৬ ০৫:১৭:২৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৮-০৬-২০২৬ ০৫:১৭:২৭ অপরাহ্ন
গরীবের হক,ধনীর পকেটে,  বানিয়াচংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, টাকা পাচ্ছে ধনাঢ্য,  তদন্তের দাবী।। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রতি মাসে
স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ।। গত এপ্রিল মাসে উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা অতিবৃষ্টিতে হবিগঞ্জ বানিয়াচংয়ের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফসল হারিয়ে কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েন। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রতি মাসে চাল ও নগদ অর্থ সহায়তার ঘোষণা দেয়। এই সহায়তা বিতরণে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগকে সমন্বিতভাবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তার তালিকায় স্থান হয়নি হাজারো প্রান্তিক কৃষকের। অথচ চূড়ান্ত তালিকায় বিভিন্ন ধনাঢ্য ব্যক্তি ও অ-কৃষকের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি তালিকা প্রকাশের পর উপজেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।৫ নং দৌলতপুর ইউনিয়নের পক্ষে কয়েক জন কৃষক অনিয়মের অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট দাখিল করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র অভিযোগ ও পনরায় নতুন করে তালিকা তৈরীর দাবী উঠেছে। ২ নং ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শেখ তখলিছুর রহমান লাইভে এসে তালিকা স্বচ্ছতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এছাড়াও উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তালিকা পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বানিয়াচং উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের হাজার হাজার হেক্টর আমন ধানের জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে কয়েক হাজার কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকায় দাঁড়ায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের জন্য বানিয়াচং উপজেলা কৃষি অফিসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষি বিভাগ ৮ হাজার ৭৭৮ জন কৃষকের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করে। পরে সেখান থেকে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ৭ শ' ৮৫ জন কৃষকের নাম সহায়তার জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। ইতোমধ্যে তালিকা অনুযায়ী সহায়তা বিতরণের দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদগুলোর কাছে হস্তান্তর করেছে উপজেলা প্রশাসন।কয়েকটি ইউনিয়নে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা নগদ সহায়তা ও ১৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে ইউনিয়নভিত্তিক তালিকা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ সচেতন মহলে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, তালিকায় প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে ধনাঢ্য ব্যক্তি ও অ-কৃষকদের নাম স্থান পেয়েছে। এমন অনেকের নাম রয়েছে, যারা কখনও হাওরে কৃষিকাজ করেননি কিংবা কৃষির সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততাও নেই।চট্টগ্রাম গার্মেন্টসে চাকরি করে মহিলার নাম ও তালিকায় এসেছে। ৫ নং দৌলতপুর ইউনিয়নের বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান বলেন, " কৃষকের তালিকায় একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নাম ও মহিলার নাম তালিকায় দেখে বিস্মিত হয়েছি। " ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সহায়তা অন্যদের হাতে চলে যাচ্ছে।৩ নম্বর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এনায়েত হোসেন বলেন, কৃষি অফিসের অধিকাংশ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সরেজমিনে হাওর পরিদর্শন না করেই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশে অফিসে বসে তালিকা প্রস্তুত করেছেন। এতে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হয়েছেন। অনেক নেতা নিজেদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনের নাম তালিকাভুক্ত করিয়েছেন।১ নম্বর ইউনিয়নের বর্গাচাষি শহিদুল মিয়া বলেন, বর্গা নিয়ে ১২ একর জমিতে আবাদ করেছিলাম। সব জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এক মুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারিনি। দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তাকে বারবার জানালেও আমার নাম তালিকায় আসেনি।৬ নম্বর ইউনিয়নের কৃষক সাইদুর বলেন, হাজার হাজার কৃষকের জমি তলিয়ে গেলেও কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ও টাকা ধনাঢ্য ব্যক্তি এবং অ-কৃষকদের পকেটে যাচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কৃষকদের সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বানিয়াচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হকের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন," আমি ছুটি নিয়ে হজ্জে ছিলাম, আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে, এ সময়ে যিনি দায়িত্বে ছিলেন, তিনি বলতে পারবেন। " ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ